পেঁয়াজের বেগুনি দাদ রোগ বা বাদামি দাদ রোগ।

14 December, 2024 5 mins min read Bangla
  • Description

ফসলের রোগ আলোচনা পর্বে আজকে আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে পেঁয়াজের সব থেকে ক্ষতিকর রোগ পার্পল ব্লচ বা বস্নাইট, বাংলায় সমার্থক দাঁড়ায় বেগুনি দাদ রোগ বা বাদামি দাদ রোগ।

পেঁয়াজ চাষে পার্পল ব্লচ একটি সাধারণ এবং ক্ষতিকারক রোগ। এই রোগটি ছত্রাকজনিত। এই রোগ মূলত Alternaria porii ছত্রাক দ্বারা সংক্রামিত হয়ে থাকে। পেঁয়াজের উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে এই রোগ।

  • রোগের লক্ষণ:
    • পাতায় দাগ: প্রথমে পাতায় ছোট ছোট পানি ভেজা দাগ দেখা যায়। এই দাগগুলি ক্রমশ বড় হয়ে বাদামি বা বেগুনি রঙের হয়ে ওঠে।
    • ফুস্কুরি: দাগগুলি পরবর্তীতে ফুস্কুরিতে পরিণত হয় এবং পাতা মরে যায়।
    • পাতা ঝরে পড়া: আক্রান্ত পাতাগুলি ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে পড়ে এবং ঝরে যায়।
    • ফলন কমে যাওয়া: রোগের কারণে পেঁয়াজের কন্দ ছোট হয় এবং ফলন কমে যায়।
  • ক্ষতিকারকতার পরিমাণ:
    • পার্পল ব্লচ রোগ পেঁয়াজ চাষের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা। এই রোগটি যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তাহলে ফসলের উৎপাদন ৫০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এছাড়াও, আক্রান্ত কন্দগুলি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায় না।
  • প্রতিকার:
    • রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার: রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করলে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
    • ফসল চক্র: একই জমিতে বারবার পেঁয়াজ চাষ করা উচিত নয়। অন্য ধরনের ফসল চাষ করার মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।
    • আক্রান্ত গাছ ধ্বংস করা: আক্রান্ত গাছগুলি উপড়ে ফেলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
    • রাসায়নিক মাধ্যম: রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন বেন্ডাজিম, বাইজিম ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
    • জৈব পদ্ধতি: জৈব পদ্ধতি যেমন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি ব্যবহার করে রোগ বালাই দমন করা যেতে পারে।
  • প্রতিরোধ ব্যবস্থা:
    • সুস্থ বীজ ব্যবহার: রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে।
    • জমি প্রস্তুতি: চাষের আগে জমিকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে নিন।
    • সার ব্যবস্থাপনা: সঠিক পরিমাণে সার প্রয়োগ করুন।
    • সেচ ব্যবস্থা: জমিতে যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
    • আবর্তন চাষ: একই জমিতে বারবার পেঁয়াজ চাষ করবেন না।
    • আগাছা নিধন: আগাছা রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। তাই আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।