গাঁদা ফুলের বীজ তলা প্রস্তুত।
06 February, 2025
5 mins min read
Bangla
- Description
ফুল পরিচিতির আজকের তৃতীয় পর্বে ,আজকে আমরা আলোচনা করব গাঁদা ফুলের বীজ তলা প্রস্তুত বিষয়ে।
- ১. স্থান নির্বাচন:
- বীজতলার জন্য রোদযুক্ত, উঁচু ও সুনিষ্কাশিত জমি নির্বাচন করতে হবে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রে গ্রীষ্মকালের সময় যেন জমির পূর্ব ও পশ্চিম অংশে এবং শীত কালে উত্তর ও দক্ষিন অংশে যেন বড় গাছপালা না থাকে সে দিকে নজর রাখতে হবে।
- ছায়াযুক্ত জায়গা এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পেলে চারা দুর্বল হতে পারে।
-
২. মাটির প্রস্তুতি:
- নির্বাচিত জমি ভালোভাবে চাষ ও কোদাল দিয়ে নরম করে নিতে হবে।
- মাটির মধ্যে থাকা আগাছা, ইট-পাথর ও অন্যান্য আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।
- মাটির দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ প্রকৃতি হলে গাঁদা ফুলের চারা ভালো হয়।
- মাটিতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ থাকতে হবে।
- ৩. বীজতলার আকার ও উচ্চতা:
- সাধারণত ১ মিটার প্রশস্ত ও ৩-৪ মিটার লম্বা বীজতলা তৈরি করা হয়।
- বীজতলার উচ্চতা ১৫-২০ সেন্টিমিটার রাখা ভালো, যাতে অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে।
- দুইটি বীজতলার মধ্যে ৩০-৪৫ সেন্টিমিটার ফাঁকা রাখা উচিত।
- অতিরিক্ত গরম বা প্রখর দূপুর বেলায় বীজতলায় ছাউনির ব্যাবস্থা রাখতে হবে।
- ৪. মাটির সার প্রয়োগ:
- প্রতি বর্গমিটারে ৫ কেজি গোবর সার, ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম এমওপি সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।
- সার প্রয়োগের পর মাটি ভালোভাবে চাষ ও মিশিয়ে সমান করে নিতে হবে।
- ৫. বীজ বপন:
- গাঁদা ফুলের বীজ গুলিকে সারি করে বপন করা ভালো।
- সারির মধ্যে ১০-১৫ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখতে হবে।
- বীজ গুলোকে ০.৫ সেন্টিমিটার গভীরে বপন করে উপর দিয়ে পাতলা মাটি অথবা ছাই ছিটিয়ে দিতে হবে।
- ৬. সেচ প্রদান:
- বীজতলা তৈরির পর হালকা সেচ দিতে হবে যাতে মাটি আর্দ্র থাকে।
- অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না, কারণ এতে বীজ পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- ৭. আগাছা ও রোগবালাই দমন:
- বীজতলায় আগাছা জন্মালে তা তুলে ফেলতে হবে।
- প্রয়োজন হলে ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
- বীজতলার চারপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না, কারণ এতে ছত্রাকজনিত রোগ হতে পারে।
- ৮. চারা প্রতিস্থাপন:
- বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পর যখন চারা ৮-১০ সেন্টিমিটার লম্বা হবে, তখন তা মূল জমিতে রোপণ করা যায়।
- প্রতিস্থাপনের আগে বীজতলায় হালকা সেচ দিলে চারা তোলা সহজ হয়।
- সঠিকভাবে বীজতলা প্রস্তুত করলে গাঁদা ফুলের চারা সুস্থ ও সবল হয়, যা পরবর্তীতে অধিক ফুল উৎপাদনে সহায়তা করে।
